:

একের পর এক আসছে জ্বালানি তেলর জাহাজ: বাজারে তেলের হাহাকার

top-news

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও চট্টগ্রাম বন্দরে একের পর এক ভিড়ছে তেলবাহী জাহাজ। মালয়েশিয়া থেকে ২৭ হাজার ৩০০ টন পরিশোধিত ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ভীড়েছে গ্যাসওয়েলবাহী ‘পিভিটি সোলানা’। এর আগে সোমবার মালদ্বীপের পতাকাবাহী ‘এমভি পল’ নামের এ জাহাজটি বন্দরের বহির্নোঙরে এসে পৌঁছায়। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বন্দরের নৌসীমানায় নোঙ্গর করার কথা রয়েছে আরো কয়েকটি জাহাজের। এরপর কাটছে না সংকট। জেলা প্রশাসন গত কয়েকদিনে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুত করা ৪১হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করেছে। মামলা করেছে ৯৮টি।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দরে চলতি মার্চ মাসে ৩৩টি জাহাজ থেকে খালাস করা হয়েছে এলএনজি, এলপিজি, ডিজেল, অপরিশোধিত জ্বালানি তেল, ফার্ণেস অয়েলসহ বিভিন্ন জ্বালানি তেল। মঙ্গলবার মালয়েশিয়া থেকে ২৭ হাজার ৩০০ টন পরিশোধিত ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ভীড়েছে গ্যাসওয়েলবাহী ‘পিভিটি সোলানা’।  মালদ্বীপের পতাকাবাহী ‘এমভি পল’ নামের আরো একটি জাহাজ গ্যাসঅয়েল নিয়ে বন্দরের বহির্নোঙরে এসে পৌঁছায় সোমবার। ভারত থেকে এলপিজি নিয়ে GAS CHALLENGER, এলএনজি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে CELSIUS GALAPAGOS    নোঙ্গর করার কথা রয়েছে বন্দর নৌসীমানায়। ভারত থেকে  এলপিজি নিয়ে আসা SENNA 9 একটি জাহাজ খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে সীতাকুন্ডের উপকূলীয় এলাকায়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার ১০ হাজার টন ডিজেল ও ২০ হাজার টন জেট ফুয়েল নিয়ে আসা জাহাজটির তেল খালাস প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে সোমবার ।
বন্দর সচিব সৈয়দ রিফায়াত হামিম জানান, জ্বালানি তেল নিয়ে যেসব জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের নৌসীমানায় আসছে অগ্রাধিকার দিয়ে সেসব জাহাজ থেকে তেল খালাসের ব্যবস্থা করা হয়েছ। এরমধ্যে জ্বালানি খালাস করে ৩৩জাহাজ বন্দর ছেড়ে গেছে। আরো কয়েকটি জাহাজ থেকে তেল খালাস অব্যহত আছে।

প্রতিদিনই জ্বালানি তেল নিয়ে কোন কোন জাহাজ চট্টগ্রামে বন্দরে নোঙ্গর এবং সেসব জাহাজ থেকে তেল খালাস করা হলেও ফিলিং স্টেশনগুলিতে চলছে জ্বালানি তেলের হাহাকার। ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করেও মিলছে না চাহিদা অনুযায়ী তেল। নগরীর অধিংশ ফিলিং ষ্টেশন তেলের জন্য যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।

এদিকে, জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে তেল মজুতের অভিযোগ উঠেছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসান গত কয়েকদিনে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুত করা প্রায় ৪১হাজার লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করেছে। জরিমানা করেছে ৪লাখ টাকা। মামলা হয়েছে ৯৮টি। এরপর পরিস্থিতি উন্নতি হচ্ছে না। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ফখরুল ইসলাম জানান, তেল মজুতকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যহত থাকবে। যারা জ্বালানি তেল মজুত করে বাজারে অস্থিরতা তৈর করার চেষ্টা করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। 

এদিকে আতংক  সৃষ্টি করে অবৈধভাবে তেলের মজুত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহেদুল ইসলাম ভুইয়া। তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যহত রাখার কথা জানান তিনি। 

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখনো পর্যন্ত এক লাখ ৯২হাজার ৯১৯টন জ্বালানিমজুত আছে। এরমধ্যে  ডিজেল ১ লাখ ২৮ হাজার ৯৩৯ টন, অকটেন ৭ হাজার ৯৪০ টন এবং পেট্রোল ১১ হাজার ৪৩১ টন। জেট ফুয়েল আছে ৪৪ হাজার ৬০৯ টন। অবৈধভাবে তেল মজুতের অভিযোগে পরিচালিত অভিযানে এ পর্যন্ত  ৮৭ হাজার ৭০০ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানায় বিপিসি।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *